ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে চালু

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পদ্মা সেতু নির্মাণ শুরু হতে না হতেই ওয়ার্ল্ড ব্যাংক আমাদের ওপর দুর্নীতির দোষারোপ করেছিল। আমি তাদের চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলাম দুর্নীতি হয়নি। কানাডার কোর্টে তা প্রমাণিত হয়। পদ্মা সেতু ছিল আমাদের আত্মসম্মানের অনেক বড় ব্যাপার।

গতকাল গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এক্সপ্রেসওয়ে ও সেতুসহ নানা প্রকল্প উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। এতে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের যাত্রাবাড়ী মাওয়া-ভাঙ্গা ৬ লেনের এক্সপ্রেসওয়ে, খুলনা, বরিশাল ও গোপালগঞ্জে নির্মিত ২৫টি সেতু, তৃতীয় কর্ণফুলী সেতুর আওতায় ৬ লেনের অ্যাপ্রোচ সড়ক উদ্বোধন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও বলেন, মুজিববর্ষে এ প্রকল্পগুলো জনগণকে উপহার দিলাম। এ প্রকল্পের কারণে দেশের মানুষ অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে। পরে মুজিববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে ‘পরিচ্ছন্ন গ্রাম-পরিচ্ছন্ন শহর’ কর্মসূচির আওতায় দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠান থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন বিভাগীয় শহরের মেয়র এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন।

পদ্মা সেতু প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও বলেন, খরস্রোতা পদ্মায় এত বড় প্রকল্প নির্মাণের সব চ্যালেঞ্জই অতিক্রম করবে বাংলাদেশ। আধুনিক এসব অবকাঠামো শুধু প্রকল্প এলাকাতেই নয় বরং জীবনমানের উন্নয়ন ঘটাবে তৃণমূলের মানুষেরও। তিনি বলেন, পদ্মা সেতুটা কিন্তু একটি ভিন্নধর্মী দোতলা সেতু হচ্ছে। নিচ দিয়ে রেল যাবে, ওপর দিয়ে গাড়ি যাবে। পদ্মা নদীর মতো একটি খরস্রোতা নদীতে এ জাতীয় সেতু নির্মাণ করা একটা বিরাট ঝুঁকির ব্যাপার ছিল। কিন্তু আমরা সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে এই সেতু নির্মাণ করছি। তিনি বলেন, আমরা পুরো দেশে যোগাযোগের একটা নেটওয়ার্ক তৈরি করে দিচ্ছি। এটা সবক্ষেত্রেই কাজে লাগবে। আর সব থেকে বড় কথা, দক্ষিণাঞ্চলের মানুষরা ছিলাম সবচেয়ে অবহেলিত। ভাঙ্গা পর্যন্ত যেতে হলে একসময় স্টিমার বা লঞ্চে যেতে হতো, আর আমাদের গোপালগঞ্জ যেতে হলে চব্বিশ ঘণ্টা লাগত। আমি ১৯৮১ সালে যখন ফিরে আসি (বিদেশ থেকে), তখনো সেই অবস্থায়ই ছিল। যাক, আজকে আর সেই দিন নেই। আমরা ১৯৯৬ সালে সরকার গঠনের পর থেকে সারা দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য কাজ শুরু করি। আর দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসে পরিকল্পনামতো সমগ্র বাংলাদেশে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করে যাচ্ছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি প্রথমবার সরকার গঠন করে জাপান যাই। তখন পদ্মা ও রূপসা সেতু নির্মাণের জন্য তাদের অনুরোধ করেছিলাম। বঙ্গবন্ধুও ১৯৭৩ সালে জাপান সফরে গিয়ে যমুনা সেতু নির্মাণের কথা বলেছিলেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে যমুনা সেতু নির্মাণের ফিজিবিলিটি স্টাডি করে দেয় জাপান। যার পরিপ্রেক্ষিতে পরে যমুনা সেতু নির্মাণ করা হয়। পরে জাপানই পদ্মা সেতুর ফিজিবিলিটি স্টাডি করে দেয়। তিনি আরও বলেন, ঢাকা থেকে মাওয়া পর্যন্ত দেশের সর্বপ্রথম এক্সেস কন্ট্রোল এক্সপ্রেসওয়ে সেতু আমরা নির্মাণ করেছি। এই জটিল কাজটি আমাদের সেনাবাহিনী দক্ষতার সঙ্গে করেছে। এখন খুব দ্রুত এই সেতু দিয়ে টুঙ্গিপাড়া যেতে পারব। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী বছর পদ্মা সেতু চালু হলে ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে ভাঙ্গা যেতে সড়কযানে লাগবে মাত্র ৪২ মিনিট। তবে এখন ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে এই এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে সড়কযানে সরাসরি যেতে লাগবে প্রায় আধা ঘণ্টা। এই মহাসড়ক ব্যবহারের আগে যাত্রাবাড়ী থেকে মাওয়া যেতে লাগত গড়ে দুই ঘণ্টা। এখন লাগছে ৩০-৪০ মিনিট।

অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মো. নজরুল ইসলাম প্রকল্প বিষয়ে তথ্য চিত্র উপস্থাপন করেন।